বগুড়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম উচ্ছেদ অভিযান
ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত এবং যানজট কমাতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে প্রথমবারের মতো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মহানগরের সাতমাথা জিরো পয়েন্ট, জিলা স্কুল, সার্কিট হাউস ও জজকোর্ট রোডসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সিটি কর্পোরেশনের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. পপি খাতুন।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের বাজার পরিদর্শক আব্দুল হাই বিকেলে ডেইলি সানকে জানান, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এটিই ছিল প্রথম উচ্ছেদ অভিযান। তাই প্রাথমিকভাবে এটি সতর্কতামূলক অভিযান হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন বলেন, নগরবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারণ হলো ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল। জিলা স্কুল ও সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনের ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী মার্কেটে স্থায়ী দোকান থাকা সত্ত্বেও অধিক লাভের আশায় ফুটপাতে লোক বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রথম দিনের অভিযানে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে নগরের সব এলাকায় এ অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে।
ফুটপাত পুনর্দখল রোধ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বলেন, দ্রুতই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখবেন।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, সিটি এলাকায় অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বগুড়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নাগরিক হয়রানি কমিয়ে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।