EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কালো থাবায় হুমকির মুখে যাদুকাটা নদীর দুই তীর

ডেইলি সান রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

কালো থাবায় হুমকির মুখে যাদুকাটা নদীর দুই তীর

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের কারণে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই তীর, এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীতে নিয়মিত নৌ-পুলিশের বিশেষ টহল কিংবা প্রয়োজন হলে কোস্ট গার্ড মোতায়েনের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে গত ২৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠান সংসদ সদস্য। 

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

আবেদনপত্রে এমপি উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের চার উপজেলার মধ্যে তাহিরপুরে অবস্থিত যাদুকাটা নদী বালু ও পাথরের জন্য সুপরিচিত। নদীর তীরজুড়ে প্রায় ৩ হাজার শিমুলগাছ নিয়ে গড়ে উঠেছে এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, যা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষা ও বসন্ত মৌসুমে এই পর্যটন স্পটে লাখো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবাধে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সাময়িক ও দায়সারাভাবে। ফলে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এভাবে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের ফলে নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতু, এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, লাউড়ের গড়, ঘাঘটিয়া, ঘরঘাটি গ্রাম, বিন্নাকুলি বাজারসহ আশপাশের একাধিক গ্রাম, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে এসব স্থাপনা ও জনপদের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় যাদুকাটা নদী ও এর তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রাম, পর্যটনকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় নিয়মিত নৌ-পুলিশের বিশেষ টহল কিংবা প্রয়োজনে কোস্ট গার্ড মোতায়েন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, যাদুকাটা নদীর দুই তীর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কাজে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আরও পড়ুন