EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকার প্রস্তাব

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকার প্রস্তাব

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অ অ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান বাতিলের নির্দেশনা এবং ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা ও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, জনগণের করের বোঝা কমিয়ে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে হবে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারের নির্দেশ

জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের ব্যবধান নিরসনে বাজেটে প্রস্তাবিত বিশেষ বিধানকে ঘিরে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ওই বিধান সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা উচিত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন।

একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তির নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন (টিন) সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকার প্রস্তাব

করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে প্রস্তাবিত ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা উচিত।

এছাড়া ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে এ সীমা সাড়ে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকা করারও প্রস্তাব দেন তিনি।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে জোর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি 'মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট' পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন-ডিসক্লোজার চুক্তি করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারে সংস্কারের অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতের দুঃশাসনের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার গভীর সংকটে পড়েছিল। বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

উচ্চশিক্ষা ও স্টার্টআপে প্রণোদনা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, ভাষা শিক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিল্প খাতে শুল্ক-কর কমানোর আহ্বান

দেশীয় শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন কাঁচামালের আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চিংড়ি শিল্প, ওষুধ শিল্প, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, এলইডি ল্যাম্প, প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতে কর-শুল্ক ছাড়ের সুপারিশ করেন।

এছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার আহ্বান জানান, যাতে বৈধ আর্থিক লেনদেন বাড়ে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়।

বিচার বিভাগে অতিরিক্ত বরাদ্দের আহ্বান

বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সাইকেলের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন