২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য
মায়ের শালদুধের চেয়ে বড় ভিটামিন নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
শিশুদের রোগ প্রতিরোধে মায়ের শালদুধের চেয়ে বড় কোনো ভিটামিন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ালেই হবে না, জন্মের পর থেকেই মায়ের শালদুধ নিশ্চিত করতে হবে। শালদুধই শিশুর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধের উৎস।
তিনি জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৫৫ লাখ ক্যাপসুল সারাদেশে পাঠানো হয়েছে। এবার ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যাপসুলের মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান যাচাই ও পরীক্ষার পরই এসব ক্যাপসুল দেশে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দিনে কোনো শিশু ক্যাম্পেইনের আওতায় না এলে পরবর্তী সময়ে তাকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কার্যক্রম যুক্ত হয়। ২০০৩ সালে এটি পৃথক কর্মসূচি হিসেবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন নামে চালু হয়। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এটি জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) অপারেশন প্ল্যানের আওতায় পরিচালিত হয়। অপারেশন প্ল্যান বিলুপ্ত হওয়ায় চলতি বছর থেকে কর্মসূচিটি আবার জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
এবারের ক্যাম্পেইন রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এ জন্য সারাদেশে ১ লাখ ১০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।