নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ চান শামা ওবায়েদ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
অতীতে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার তৃণমূল নেতাকর্মী এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আমাদের তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মী, গ্রামের গরিব নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এখনো তারা ছিন্নমূল অবস্থায় রয়েছেন। তাদের কথা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।”
প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবসম্মত, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি কোনো ‘দিবাস্বপ্ন’ নয়; বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রতিফলন। বর্তমান সরকার সফলভাবে এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বিরোধী দল বাজেটকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ বা ‘দিবাস্বপ্ন’ বললেও এটি বাস্তবভিত্তিক। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার বড় ধরনের দায়িত্ব নিয়েছে।
শামা ওবায়েদের ভাষ্য, একটি বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি বাজেটকে মানবিক, উদ্ভাবনী, প্রগতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং যুব ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ২৫ লাখ ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং কৃষক কার্ড কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, বিভাগীয় পর্যায়ে শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা খাতে দুই লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিল, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পেপ্যাল ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু, ফ্রিল্যান্সারদের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, পরিবহন খাতে ইলেকট্রিক বাস ও নারী-শিশুদের জন্য পিংক বাস চালু এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকে তিনি জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাজার থেকে সরকারি ঋণ গ্রহণের সমালোচনার জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি ভোগের জন্য নয়, বরং উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কৌশলগত বিনিয়োগ। সরকারি ঋণের পরিমাণ এখনো জিডিপির তুলনায় টেকসই পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বাজেটে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান।