প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের দ্বার উন্মোচন করেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার ডাভোসে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা—সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ জলবায়ু নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হওয়া এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে।
শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সফরের সারাংশ তুলে ধরা হয়।
১। বিশ্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর অন্যতম অংশীদার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশগ্রহণ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মুখসারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
২। ডব্লিউইএফ-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও-এর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ফোরামের বার্ষিক সভায় গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনের প্রস্তাব করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ফোরামের সিইও।
বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রধান অর্জনসমূহ
১। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ থেকে উন্নীত হয়ে ‘চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
২। দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৩। কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে ‘২+২ ডায়ালগ মেকানিজম’ চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
৪। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
৫। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় বৃহৎ ও ক্ষুদ্র উভয় ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।
৬। উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ দুই দেশের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক, ৩টি চুক্তি, ১টি প্রটোকল এবং ১টি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
৭। বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। পাশাপাশি বিডার সঙ্গে চীনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুইটি চুক্তি এবং একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
৮। আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে বাংলাদেশের বন্দরগুলো পর্যন্ত মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ এবং চীন প্রস্তাবিত চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
৯। তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চীন এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুততর করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।
১০। সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ, নদী খনন (ড্রেজিং) এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
১১। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১২। ব্রিকস, এসসিও এবং আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের ক্ষেত্রে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।