জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন
সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা হবে জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন কার্যক্রম। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু হবে প্রতিযোগিতার মূল পর্ব। একই সঙ্গে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ কারণে নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্যও নির্ধারিত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।
তিনি জানান, চলতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রথম মৌসুমের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হবে। এরপর দ্বিতীয় মৌসুমে দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও মার্শাল আর্টে হাজারো দল গঠন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এই কর্মসূচি শুধু নতুন খেলোয়াড় তৈরিই নয়, বরং দেশের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, আগামী জুলাইয়ের পর আরও ২০০ খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হবে। এর ফলে মোট প্রায় ৫০০ খেলোয়াড় নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এতে তরুণরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের লক্ষ্যে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের জন্য অধ্যাপক ওবায়দুল স্যারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।