নির্যাতন প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর জোর
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নির্যাতন প্রতিরোধ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে তারা এ আহ্বান জানান।
গত ২২ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গণতন্ত্র চর্চা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চার (এপিটি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সংলাপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় তরুণরা কীভাবে নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক বলেন, মানবাধিকার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাংবিধানিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা গেলে দেশে জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল (ওপক্যাট)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় এ উদ্যোগ বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আইনের শাসন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়েগার বলেন, নির্যাতন কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সব ধরনের নির্যাতন প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চারের কার্যক্রম পরিচালক মেরি লেক্যাঁ বলেন, ওপক্যাটে বাংলাদেশের যোগদান ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও কার্যকর জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এর সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা গ্রেগ হিজম, আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইউইউন ওয়াহইউনিংরাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম।
বক্তারা জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, নির্যাতন প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে গবেষণা, জনসংলাপ, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের মানবাধিকার উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে উৎসাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়। দিবসটি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং নির্যাতনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।