EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ইউএনওপিএস-রাজউকের নগর নকশা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

তরুণ স্থপতিদের ভাবনায় পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল ঢাকার রূপরেখা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

ইউএনওপিএস-রাজউকের নগর নকশা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

‘কার্বন কনশাস আরবান ডিজাইন আইডিয়া কম্পিটিশন-২০২৬’-এর বিজয়ীদের নাম আজ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা দপ্তর (ইউএনওপিএস) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণ স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্ভাবনী নকশায় উঠে এসেছে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জলবায়ু-সংবেদনশীল ঢাকার স্বপ্ন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)-এর অর্থায়নে ইউএনওপিএস, ইউএনইপি, ইউএন-হ্যাবিট্যাট ও রাজউকের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে বিল্ট এনভায়রনমেন্টের রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী ধারণা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জলবায়ু-সচেতন নকশার মাধ্যমে গণপরিসর নতুনভাবে কল্পনা করার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বল্প-কার্বন উপকরণ ব্যবহার, পানি-সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরকে গুরুত্ব দিয়ে নানা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, প্রকৌশল ও টেকসই উন্নয়ন খাতের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জমা পড়া ৩৬টি নকশা মূল্যায়ন করে। বিচারকদের মতে, প্রস্তাবনাগুলোতে সৃজনশীলতা ও কারিগরি উৎকর্ষতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর, স্থিতিশীল ও জনবান্ধব নগর পরিবেশ গঠনের বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে।

প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ‘টিম বার্ন/ব্রেথ’ তাদের ‘দ্য রিসিডিং মেমব্রেন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য প্রথম স্থান অর্জন করে। অব্যবহৃত একটি জলাশয়কে পরিবেশগতভাবে পুনরুদ্ধার করে সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরে রূপান্তরের ধারণা বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। একই প্রকল্প ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড’-ও লাভ করে।

দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চুয়েটের ‘টিম ইউনিট ফাইভ’, তাদের ‘স্যাচুরেট: অ্যান আরবানস্কেপ দ্যাট রিটার্নস ওয়াটার টু আর্থ’ শীর্ষক প্রস্তাবনার জন্য। তৃতীয় স্থান লাভ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ‘টিম ওয়েস্ট লাইন’, তাদের ‘মেমোরিজ অব বেঙ্গল: অ্যান ইকোলজি অব বিলংগিং ইন দ্য আরবান ফ্যাব্রিক’ প্রকল্পের জন্য।

এ ছাড়া বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারটি বিষয়ভিত্তিক পুরস্কার দেওয়া হয়। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘টিম ভ্যানগার্ড আরবানিস্টস’ পেয়েছে ‘লো-কার্বন পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম ছায়া’ পেয়েছে ‘ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার-রেডি পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম অরণ্যক’ পেয়েছে ‘ইনক্লুসিভ অ্যান্ড অ্যাক্সেসিবল পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’।

আয়োজকরা জানান, বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে মোট ১০ লাখ টাকা পুরস্কার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি এ প্রতিযোগিতা ভবিষ্যৎ স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ ও ডিজাইনারদের মধ্যে টেকসই ও স্বল্প-কার্বন নগর উন্নয়ন ভাবনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজয়ী দল ও অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বাংলাদেশের জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন