নিমসার কাঁচাবাজার
কুমিল্লায় চাঁদাবাজিতে একাট্টা আ.লীগ-বিএনপি-জামায়াত
ডেইলি সান রিপোর্ট, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিমসার কাঁচাবাজার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিমসার কাঁচাবাজারে খাজনা আদায়ের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, এ চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়িত।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন নিমসার কাঁচাবাজার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এ বাজারে। বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন এখানে কোটি টাকার লেনদেন হলেও খাজনা ও বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য নিমসার বাজারটি ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদারকে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে পণ্য বিক্রি ও কেনা—উভয় ক্ষেত্রেই খাজনা দিতে হয়। বড় ট্রাক প্রবেশে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনপ্রতি ২০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ করা সরকারি জমি পুনর্দখল করে সেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা ও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ কাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা থেকে তরমুজ বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, “এক লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করলেও আট হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করা কঠিন।”
টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী ওসমান গনি অভিযোগ করেন, বাজারে পণ্য আনলেই অতিরিক্ত খাজনা দিতে হয়। এতে ব্যবসার খরচ বাড়ছে এবং এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়ছে।
এ বিষয়ে বাজারের ইজারাদার সফিকুর রহমান ভূঁইয়া অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন করে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, “জেলায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, উচ্ছেদের পরও কিছু ব্যক্তি পুনরায় সরকারি জায়গা দখল করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এর প্রভাব নিত্যপণ্যের দামে আরও বাড়বে।