EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অ অ

নিরাপত্তার নামে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই একজন সরকারপ্রধানের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে তার সংযোগ অটুট থাকে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে একটি অত্যাধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে এসএসএফকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, পরিবর্তিত আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখন বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসএসএফ সদস্যদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।”

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসএসএফ সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আমি মনে করি, আপনারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।”

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ফায়ারিং রেঞ্জ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, ২০০২ সালের পর সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসএসএফের ‘রেড বুক’ পুনর্গঠন করে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। এ নীতিমালার যথাযথ অনুসরণের পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এজন্য অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে জনগণ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন