EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নদীপথে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি

ডেইলি সান রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

নদীপথে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, সতর্ক বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নদীপথ ব্যবহার করে বারবার পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য ও সহযোগিতায় এসব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাতেও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিষণ সীমান্তের ভারতীয় অংশে কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের সতর্কতা ও বিজিবির টহল তৎপরতার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

এর আগে গত ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি ও রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় ৪৪ শিশু, নারী ও পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। প্রতিবারই স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।

বিজিবি ও স্থানীয়দের ভাষ্য, তারবিহীন নদীপথ এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এসব পথ ব্যবহার করে পুশইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও টহল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করেছে বিজিবি। তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবল বাড়ানো হয়েছে। নদী ও বিল এলাকায় নৌকায় এবং স্থলপথে বাইনোকুলার, ড্রোন ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাতের বেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে নাইট ভিশন ক্যামেরাও।

গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। বিজিবি তাকে আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠায়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী রোকনপুর গ্রামের সাতজনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।

এর আগে ১৩ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্তসংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ওই দলে ছিলেন দুই পুরুষ, আট নারী ও পাঁচ শিশু।

এ ছাড়া ৪ জুন ভোররাতে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি বাধা দিলে তারা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরে বিএসএফ তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। ওই দলে ছিলেন ১২ পুরুষ, ১০ নারী ও ছয় শিশু।

আরও পড়ুন