EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল, জেলেদের মাঝে ২৪ হাজার টন ভিজিএফ বিতরণ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল, জেলেদের মাঝে ২৪ হাজার টন ভিজিএফ বিতরণ
অ অ

সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি মৎস্যজীবী পরিবারের মধ্যে ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মৎস্য নৌযানের মাধ্যমে যেকোনো প্রজাতির মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এ সময় বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রে যাত্রার অনুমতি স্থগিত রাখা হয় এবং বরফকলগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বরফ উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়।

জেলেদের সহায়তায় মানবিক কর্মসূচির আওতায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় নিবন্ধিত ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি মৎস্যজীবী পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নিষেধাজ্ঞাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে ২ হাজার ৪৩৮টি মাছ অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ত এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

এ সময় ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জব্দকৃত মাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন