শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: মাহদী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, যোগ্য ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নিজেদের বিকশিত করতে পারবে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, “আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ ও প্রতিভা অনুযায়ী বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। কেউ স্কাউটিং করবে, কেউ গার্লস গাইডে যুক্ত হবে, কেউ বিতর্ক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, ক্রীড়া বা ধর্মীয় চর্চায় অংশ নেবে—প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ দিতে চাই।”
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের মাধ্যম। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এ আয়োজন শুধু ঢাকায় নয়, দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও উদ্যোগী চিন্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।
তিনি জানান, এ কর্মসূচিতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ১২ হাজার দল অংশগ্রহণ করেছে। এতে প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৪ হাজার শিক্ষক সম্পৃক্ত রয়েছেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যৌথ অংশগ্রহণের এ মডেল দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, “বাংলাদেশকে বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা, মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। সে লক্ষ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পারস্পরিক সম্পর্ক ভয়ভীতির নয়, বরং সহযোগিতা, আস্থা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই একটি সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা উপস্থাপন করেন। আয়োজকরা জানান, তরুণদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন অতিথিরা এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।