EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকায় যুবদল নেতার স্বজন— বঞ্চিত প্রকৃতরা

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সরকারি মানবিক সহায়তায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকায় যুবদল নেতার স্বজন— বঞ্চিত প্রকৃতরা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন সদস্যের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাহাড়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। সরকারি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার ১৫৫ নম্বর ক্রমিকে তার নিজের নাম রয়েছে। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন তার দুই ভাই— ব্যবসায়ী রফিক মিয়া ও ফারুক মিয়া, বোনের স্বামী শান্তি মিয়া এবং সাত ভাগনে— মামুন মিয়া, রোমন মিয়া, সুমন মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, সোহাগ মিয়াসহ আরও দুজন।

স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তিদের কেউই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের বড় একটি অংশ শাল্লা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মানবিক সহায়তার প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কৃষক না হয়েও তালিকায় নাম লেখানো হয়েছে। এই অনিয়মের ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, ‘আমার জানামতে আব্দুর রাজ্জাক নিজে জমিজমা করেননি। আমার চোখেও পরে নি। উনার এক ভাই সাংবাদিক ফারুক সে জমি করেছে, সেটা আমিও দেখছি। আমি চেয়ারম্যান হয়েও একটা নামও দিচ্ছি না তালিকায়। মেম্বার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উনার তালিকা করেছেন। উনারাই তালিকা যাচাই-বাছাই, সিলেকশন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, ‘তালিকায় নাম দেওয়ার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি জমি না করলেও আমার ৬০-৭০ কিয়ার জমি আছে, যেগুলো অন্যরা করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাল্লা উপজেলা যুবদলের এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অনিয়ম করছে। আমাদের সভাপতি ও তার আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় দেখে আমরা অবাক। অথচ তারা কেউ কৃষক নন। দলের শীর্ষ নেতাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই তাদের এই কৌশল।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তালিকায় যদি কোন অসংগতি থাকে তাহলে স্থানীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।’

আরও পড়ুন