সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতি মন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা অন্য কোনো সংস্কৃতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়; বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম ‘সভ্যতাসমূহের মধ্যে সংলাপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং বাংলাদেশ-চীন প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির যৌথ উদ্যোগে ‘সমমনা আত্মার সংলাপ: চীন-বাংলাদেশ গবেষক সংলাপ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্ব একটি জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ভুল বোঝাবুঝি, পারস্পরিক দূরত্ব এবং সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের মানসিকতা বিশ্বজুড়ে বিভাজন তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সভ্যতার মধ্যে সংঘাত নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই মানবসভ্যতার অগ্রগতি সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক উন্নয়ন দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ’-কে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। এই উদ্যোগ সভ্যতার বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব নতুন নয়; এর শিকড় হাজার বছরের ইতিহাসে প্রোথিত। প্রাচীন রেশম পথ থেকে শুরু করে বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক অবদান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। বর্তমানে সেই সম্পর্ক একটি ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী চীনা হস্তলিপি, বই এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম স্থান পায়।
সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংস্কৃতিজনদের উদ্দেশে মন্ত্রী মুক্তচিন্তার চর্চা এবং বাংলাদেশ-চীন সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।