এমপিওর দাবিতে আমরণ অনশনে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা
চার দশকেও এমপিওভুক্তি নেই, বঞ্চিত প্রায় ১৭০০ শিক্ষক
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিও বাস্তবায়ন ও বকেয়া বেতন ছাড়ের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
গত ২১ মে থেকে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির উদ্যোগে এই অবস্থান কর্মসূচি চলছে। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিক্ষক নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
বক্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে গত বছর ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও একটি মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়নি। ফলে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন এবং ১৯৮৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার পরও দীর্ঘ চার দশকে কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত বা জাতীয়করণ হয়নি। ১৯৯৪ সালে শিক্ষকদের ভাতা এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা হলেও মূল দাবি আজও পূরণ হয়নি।
২০১৩ সালে সরকার হাজার হাজার নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করলে বিজয় সরণি এলাকায় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় গেলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের ছুটি শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে সেই আশ্বাস এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।