যমুনা সেতু এলাকায় ১৮ কিলোমিটার যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
ডেইলি সান রিপোর্ট, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২৭ এএম
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং যমুনা সেতু ও সংযোগ সড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোররাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর ওপর ও সংযোগ সড়কে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এসব যানবাহন সরিয়ে নিতে সময় লাগায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং ধীরে ধীরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিলে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম শনিবার সকালে জানান, সেতুর ওপর বিকল হয়ে পড়া যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ বিকল যানবাহন ছিল পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং ঢাকামুখী ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর উভয় পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুয়েল মিয়া জানান, মহাসড়কে এখনও যানবাহনের চাপ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যান চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ এবং যানবাহনের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে উত্তরবঙ্গগামী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে সাময়িক এ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।