যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:২১ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যে যমুনা সেতুতে মাত্র ২৩ ঘণ্টায় ছোট-বড় ২৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার কারণে সেতু ও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত সময়ে সেতুর ওপর ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরাতে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। কখনো এক লেন, আবার কখনো দুই লেন বন্ধ থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। এ দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সেতুর পশ্চিমপাড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
ঈদের ছুটি শেষে শনিবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো পূর্ণমাত্রায় চালু হওয়ায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এতে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যানবাহন বিকল হওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার মতো ঘটনাগুলোর কারণে সেতুর ওপর চলাচল বারবার ব্যাহত হয়েছে। একটি যানবাহন বিকল হলেই দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি যানজট ও জনভোগান্তির জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাধারণ সময়ে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময়ে সেই সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি হয়ে যায়, যা সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।