মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
ডেইলি সান রিপোর্ট, নোয়াখালী
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোথাও অপমান, হেয়প্রতিপন্ন বা অসম্মান করা হলে সরকার চুপ করে থাকবে না। এ ধরনের ঘটনার কঠোর জবাব দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি জানান, তার বাবা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, অনুমোদিত অনেক প্রকল্পের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ জন্য তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের পরিচয় ও অস্তিত্বের ভিত্তি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলন। কোনো একক রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব হিসেবে এটিকে দেখার সুযোগ নেই।
দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর জাতিকে আর বিভক্ত করা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রদল ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।