EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জে তীব্র গরমে নাকাল জনজীবন, বৃষ্টির অপেক্ষায় মানুষ

এক পশলা বৃষ্টি, একটু মেঘ ও কিছুটা শীতল বাতাসের প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছেন জেলাবাসী

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

সিরাজগঞ্জে তীব্র গরমে নাকাল জনজীবন, বৃষ্টির অপেক্ষায় মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সিরাজগঞ্জে কয়েক দিন ধরে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। মানুষ, গবাদিপশু, ফসল ও প্রকৃতি— সবকিছুই যেন দাবদাহের নির্মম দহনে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত। এক পশলা বৃষ্টি, একটু মেঘ ও কিছুটা শীতল বাতাসের প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছেন জেলাবাসী।

মঙ্গলবার (০২ জুন) বেলা ১১টার পর থেকে জেলার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। তবে আবহাওয়ার এই পরিসংখ্যানের চেয়েও বাস্তবে গরম অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ঘরের ভেতরে ফ্যান ঘুরলেও স্বস্তি মিলছে না। ভুক্তভোগীদের মতে, ফ্যানের বাতাসও যেন গরম ‘লু হাওয়া’ হয়ে শরীরে লাগছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র গরমের কারণে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশ কম।

তবে জীবিকার তাগিদে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক, খেতমজুর ও দিনমজুররা। খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে এবং বারবার পানি পান করেও তৃষ্ণা মিটছে না। দুপুরের দিকে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে বলে জানান অনেক শ্রমজীবী মানুষ। শহরের বিভিন্ন সড়কে তাদের গাছের ছায়া কিংবা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

দাবদাহের কারণে শহরে ঠান্ডা পানি, শরবত ও ডাবের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। ফুটপাত ও বাজার এলাকার শরবতের দোকানগুলোতে তৃষ্ণার্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে তীব্র গরমের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, জ্বর, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে তারা পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনে রোদে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

অনাবৃষ্টির কারণে নদী-নালা, খাল-বিল ও ছোট জলাধারগুলোর পানি শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। কৃষকেরা জানান, প্রচণ্ড রোদে জমির আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে, যার ফলে অনেক এলাকায় সেচের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মাটির নিচের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও দূষণের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।

দাবদাহের এই দহন থেকে রেহাই পাচ্ছে না প্রাণীকূলও। খামারি ও পশুপালকেরা জানান, তীব্র গরমে গবাদিপশুগুলো সারাক্ষণ হাঁপাচ্ছে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পানি পান করছে। অন্যদিকে গাছে গাছে উড়ে বেড়ানো পাখিগুলোকেও পানির সন্ধানে ব্যাকুল হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। প্রকৃতির এই কঠিন পরীক্ষার মধ্যে তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

আরও পড়ুন