সৌদিয়ার বহরে যুক্ত হল সর্বাধুনিক এয়ারবাস
হজ, ওমরাহ ও প্রবাসীদের দীর্ঘ যাত্রা হবে আরও আরামদায়ক
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি আকাশপথের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় রুট সৌদি আরবে যাতায়াতকারী যাত্রী, ওমরাহ ও হজ প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া’।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার প্রথম বিমান সংস্থা হিসেবে সৌদিয়া তাদের বহরে যুক্ত করেছে প্রথম অতিদূর পরিসরের ন্যারোবডি বিমান ‘এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর’। এর মাধ্যমে বিমান সংস্থাটি তাদের নতুন কেবিন, কানেক্টিভিটি ও অনবোর্ড সেবার আধুনিক সংস্করণ ‘দ্যা নিউ সৌদিয়া এক্সপেরিয়েন্স’ চালু করল।
নতুন এই এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর বিমানটির রেঞ্জ সর্বোচ্চ ৮,৭০০ কিলোমিটার এবং এটি একটানা ৯ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে সক্ষম। এর ফলে সৌদিয়া ন্যারো-বডি বিমানের সর্বোচ্চ দক্ষতা ব্যবহার করে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে আরও নমনীয়তা ও দক্ষতার সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এটি যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চমানের অনবোর্ড অভিজ্ঞতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
‘দ্যা নিউ সৌদিয়া এক্সপেরিয়েন্স’- এর আওতায় এই বিমানটির অভ্যন্তরীণ ডিজাইন করা হয়েছে অত্যন্ত বিলাসবহুল ও আরামদায়কভাবে-
বিজনেস ক্লাস: ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করতে কেবিনে রয়েছে ২৪টি অত্যাধুনিক ‘বিজনেস ক্লাস স্যুইট’।
ইকোনমি (গেস্ট ক্লাস): সাধারণ যাত্রীদের জন্য রয়েছে ১২০টি উন্নত সিট ডিজাইনের আসন। প্রতিটি আসনে থাকছে ১৩ ইঞ্চির পারসোনাল এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন এবং চার্জিং পোর্ট সুবিধা।
দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকে আনন্দদায়ক করতে বিমানটিতে থাকছে উচ্চগতির ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট সুবিধা, যার মাধ্যমে যাত্রীরা অনায়াসে ব্রাউজিং, লাইভ স্ট্রিমিং, ভার্চুয়াল মিটিং এবং বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য থাকছে বিশেষ আকর্ষণ ‘ইন-ফ্লাইট শেফ’ সেবা, যেখানে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করার মতো ঐতিহ্যবাহী সৌদি ও আন্তর্জাতিক খাবার পরিবেশন করা হবে।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সৌদিয়ার এই আধুনিক বহর উন্নয়ন ঢাকা ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রমণ সংযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে হজ, ওমরাহ এবং ছুটির মৌসুমে পিলগ্রিম, ব্যবসায়ী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা এখন আরও আরামদায়ক, আধুনিক ও সহজ হবে।
সৌদিয়া গ্রুপের ডিরেক্টর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম আল ওমার বলেন- ‘এই এ৩২১এক্সএলআর ডেলিভারি সৌদিয়ার চলমান রূপান্তরের গতি নির্দেশ করে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সক্ষমতা বাড়ানো নয়, বরং এমন বিমান ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা যা আমাদের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করবে এবং কিংডমের এভিয়েশন ভিশনকে সমর্থন করবে। ‘দ্যা নিউ সৌদিয়া এক্সপেরিয়েন্স’ এই দিকটিই তুলে ধরে, যেখানে উন্নত অনবোর্ড প্রোডাক্ট, সেবার মান এবং অপারেশনাল দক্ষতা একত্রিত হয়েছে।’
সৌদিয়া পরিকল্পনা করেছে ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহরে এই মডেলের আরও ১৫টি বিমান যুক্ত করার। এই পদক্ষেপটি পর্যটন, ব্যবসা এবং হজ ও ওমরাহ যাত্রার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ ও বিমান চলাচল কৌশলকে সফল করতে বড় ভূমিকা রাখবে।