দিনাজপুরে লিচুর বাজার জমজমাট, কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, দিনাজপুর
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লিচুর রাজধানীখ্যাত উত্তরের জেলা দিনাজপুরে এখন যেন উৎসবের আমেজ। বাগানে বাগানে লাল টসটসে পাকা লিচুর সমারোহ আর বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে গোটা জেলা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো বাজারদরে এবার লিচু বিক্রি থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের কালিতলা নিউ মার্কেট, পুলহাট, সিকদারহাট, মহব্বতপুর, উলিপুর, মাসিমপুর ও আউলিয়াপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে লিচুর বেচাকেনা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষ শ্রমিকরা গাছ থেকে লিচু পেড়ে ৫০টি করে আঁটি বেঁধে ভ্যান ও ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।
বর্তমানে কালিতলা নিউ মার্কেটে প্রতি ১০০টি মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা লিচু ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চায়না-৩ লিচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং চায়না-৪ লিচু ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের চাপে বাজারদর কিছুটা বেশি রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সদর উপজেলার সিকদার গ্রামের লিচুবাগান মালিক মকসেদ আলী বলেন, ‘দিনাজপুরের উন্নত মানের লিচুর চাহিদা প্রতিবছরই থাকে। এবারও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লিচু কিনছেন।’
মহব্বতপুরের লিচুচাষি মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। শুরু থেকেই পাইকারদের চাপ থাকায় বাগান থেকেই অনেক লিচু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।’
লিচুর আড়তদার আব্দুল্লাহ জানান, দিনাজপুরে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। ফলে মৌসুমজুড়ে দেশের অন্যতম বড় ফলের বাজারে পরিণত হয় দিনাজপুর।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বেদানা লিচু ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং গত কয়েক বছর ধরে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাজারে এখন মাদ্রাজি, বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচু পাওয়া গেলেও বোম্বাই, কাঁঠালি, হারিয়া ও মোজাফরিসহ অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।