EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, কমবে কবে

সোমবার (১ জুন) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

কুড়িগ্রামে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, কমবে কবে

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে গত চারদিন ধরে চলছে তীব্র দাবদাহ। ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে পুরো জনপদ যেন এক অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রিকশাচালক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষজন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে থেকে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সোমবার (১ জুন) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও তীব্র ভ্যাপসা গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুপুরের পর থেকে শহর ও গ্রামের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরম বাতাসে সড়কের পিচ গলে নরম হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যার ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

শহরের রিকশাচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত আর চালাতে পারছি না। গত কয়েকদিনের চেয়ে আজ অনেক বেশি গরম। আমরা রিকশা চালাব কীভাবে?’

অন্যদিকে, রাজারহাটের টগরাইহাট এলাকার কৃষক দেলোয়ার হােসেন জানান, ‘বানের পানিতে ধান ডুবে গিয়েছিল। এখন রোদ হওয়ায় ধানগুলো শুকাতে পারছি, কিন্তু এত গরম সহ্য করা কঠিন। মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না, বারবার পানি খেয়েও পিপাসা মিটছে না।’

তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন- ‘অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। এই সময়ে সবাইকে বেশি করে পানি ও তরল জাতীয় খাবার, বিশেষ করে ডাবের পানি পান করতে হবে। খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের রোদে বাইরে না যাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান নিতে হবে।’

তবে এই তীব্র গরম থেকে শিগগিরই স্বস্তির আভাস মিলতে পারে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আগামী ৪ ও ৫ জুনের মধ্যে এই অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন