EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বগুড়ায় চামড়া ব্যবসায় মূলধন হারিয়ে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

বগুড়ায় চামড়া ব্যবসায় মূলধন হারিয়ে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
অ অ

ঢাকার পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ট্যানারি মালিকদের কাছে বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা প্রায় অর্ধকোটি টাকা। বছরের পর বছর এই বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় তীব্র নগদ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে এবার ঈদুল আজহায় পাড়া-মহল্লার ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কোনো অগ্রিম টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। মূলধন হারিয়ে এই খাতের অনেক অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

একসময় কোরবানির ঈদ মানেই ছিল এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় দুস্থ গরিবদের জন্য বাড়তি আয়ের বড় উৎস। সেই পশুর চামড়াই এখন অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা শহরের জলেশ্বরীতলা, মালতীনগর, কলোনি, বাদুড়তলা, চকসূত্রাপুর, বেজোড়া, সাগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া কেনাবেচা চললেও সবার মুখেই ছিল হতাশার চিহ্ন। অনেক কোরবানিদাতা চামড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতার দেখাও মেলেনি। একই চিত্র দেখা গেছে, জেলার সারিয়াকান্দী, সোনাতলা, শিবগঞ্জ, আদমদীঘি, দুপচাচিয়া, শেরপুর, ধুনট, কাহালু, নন্দীগ্রাম, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলাতেও। 

ট্যানারি মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদেরকে সরকার নির্ধিারিত মূল্য না দেওয়া, চামড়া লবনযুক্ত করতে (প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত) খরচ কিছুটা বেড়ে যাওয়াসহ চামড়ার গুণগত মান খারাপ হওয়াসহ নানা কারণে উপযুক্ত মূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন চামড়া বিক্রেতারা। অনেক স্থানেই ক্রেতার অভাবে এখনও পড়ে রয়েছে অবিক্রীত চামড়া। একই কারণে বিক্রিবন্ধ প্রায় ছাগল ও ভেড়ার চামড়া।

একসময় এ জেলায় চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ থাকলেও এখন সেটি নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া টাকার পাহাড় জমে থাকায় মাঠপর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে পুরোটাই। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চামড়া শিল্প ব্যবসা। দ্রুত এ বিষয়ে সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক হস্তক্ষেপ না হলে বাঁচানো সম্ভব হবে না এই ব্যবসা। একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে দুস্থ ও এতিমদের হক, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চামড়া ব্যবসায় জড়িত শাহাদৎ হোসেন ও মন্টু মোল্লার দাবি, নতুন সরকার আসার পর তারা কিছুটা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আশা গুঁড়েবালি। চামড়া কেনাবেচায় এতটা খারাপ বাজার ভাবতেই পারছেন না তারা। ট্যানারি মালিকরা বাকি রেখে টাকা দেয় না। কোটি কোটি টাকার চামড়া দিলেও তারা কোন লিখিত কাগজও দেননি। ঢাকার কয়েকটি ট্যানারি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ না করেই ব্যবসা থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। রিলায়েন্স, বিএলসি, ঢাকা হাইড সহ অনেক কোম্পানি কোটি কোটি টাকা বাকি রেখে আত্মসাৎ করেছে। কথার ওপর ভরসা করে চামড়া দিয়ে পরে আর কোন বকেয়া আদায় করতে পারিনি।

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ শাহীন ডেইলি সানকে জানান, গুরু ও খাসির চামড়ায় ল্যাম্প রোগ হওয়ায় গুনগত মানও কিছুটা খারাপ। এরপর ট্যানারি মালিকরা চামড়া বিক্রেতাদের সরকার নির্ধিারিত দামের চেয়ে কম দাম দিচ্ছে। এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানি দেওয়া এক থেকে দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া কেনাবেচা হয়েছে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং দুই থেকে ৩ লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া কেনাবেচা হয়েছে ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায়। ট্যানারি মালিকরাই চামড়া ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকারী। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কোনোভাবেই সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনেননি। সরকারকে আরও কঠোর ও আন্তরিক হতে হবে। তা না হলে এই ব্যবসায় পথে নামতে হবে চামড়া ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন