নোয়াখালীতে চুরির অভিযোগে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২৫
ডেইলি সান রিপোর্ট, নোয়াখালী
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর সেনবাগে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সেনবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ মোহন নাথ এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সোহেল। তাদের সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আহত অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাতারপাইয়া পশ্চিমপাড়ার এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেনের বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করেন। পরে ওই বাড়ি থেকে কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেন ওই মিস্ত্রিকে সন্দেহ করলে বাজারে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টি দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পশ্চিমপাড়ার লোকজন বাজারে জড়ো হন। একই সময়ে পূর্বপাড়ার বাসিন্দারাও সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজার এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে ছাতারপাইয়া বাজার ও সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বাজারের অন্তত ৪০টি দোকানের শাটার ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সেনবাগ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগ দিলে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, ‘বৈদ্যুতিক তার চুরিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘শনিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’