ঈদের ছুটি
তীব্র গরম উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০১:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহার রেশ কাটেনি এখনো। আজ ঈদের পরদিন শুক্রবার, ছুটির দিনে যেন উৎসবের আমেজ রূপ নিয়েছে এক গণজোয়ারে। দুপুরের চড়া রোদ আর তীব্র গরমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের বিনোদন এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে মানুষের ঢল। খাঁ খাঁ রোদ্দুর ছাপিয়ে চারদিকে এখন কেবলই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর কোলাহল।
সকাল গড়াতেই নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী কিংবা পাহাড়-লে ঘেরা ফয়’জ লেক— সবখানেই তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে ঈদের এই সময়টাকে একটু নিজের মতো করে রাঙিয়ে নিতেই উৎসবমুখর মানুষের এই সমাগম।
বিকেলের আলো ফ্যাকাশে হতেই পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পরিণত হয় এক মহাসমুদ্রে। সাগরের নোনা জলের আছড়ে পড়া ঢেউয়ের স্পর্শ নিতে জলকেলিতে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। কেউ সমুদ্রের নীল জলকে ব্যাকগ্রাউন্ড বানিয়ে ফ্রেমবন্দি করছেন চমৎকার সব মুহূর্ত, কেউবা চড়ে বসছেন ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে।
পতেঙ্গায় সপরিবারে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানির ঈদের ধকল আর এই তীব্র গরমের কারণে প্রথমে বের হতে দ্বিধা হচ্ছিল। কিন্তু অনেকদিন পর পুরো পরিবার একসঙ্গে ছুটি পেয়েছে, তাই চলে এলাম। সাগরের বাতাস গায়ে লাগতেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।’
নগরের বাইরে আনোয়ারার পারকি সৈকত এবং সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সী-বিচেও ছিল চোখের পড়ার মতো ভিড়। বিশেষ করে গুলিয়াখালীর সবুজ ঘাস আর সাগরের মিতালী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। আর তরুণ-তরুণীদের মূল আকর্ষণ ছিল ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্ট। পড়ন্ত বিকেলে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে লাল সূর্যের বিদায়লগ্নের সাক্ষী হতে সেখানে জমায়েত হয়েছিলেন অসংখ্য যুগল ও বন্ধুমহল।
প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি কৃত্রিম বিনোদনের খোঁজে সাধারণ মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল ফয়’জ লেক ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। ফয়’জ লেকের শান্ত জলে নৌকাভ্রমণ আর রোমাঞ্চকর রাইডগুলোতে চড়তে দর্শনার্থীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষাতেও ছিল না কোনো বিরক্তি, বরং ছিল এক অন্যরকম আনন্দ।
বান্ধবীদের সঙ্গে ফয়’জ লেকে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী নুসরাত জাহান উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বিনোদনকেন্দ্রে একটু ভিড় তো থাকবেই। রাইডে চড়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও পুরো পরিবেশটা এত বেশি আনন্দমুখর যে একটুও খারাপ লাগছে না।’
ঠিক পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে দুপুরের পর থেকেই তৈরি হয় দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। খাঁচার ভেতরের বাঘ, সিংহ কিংবা নানা রঙের পাখি দেখে শিশুদের আনন্দ ছিল আকাশচুম্বী।
একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার ভূমিকা রাখছে প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোর প্রবেশমুখে যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ করে সৈকত ও বিনোদন এলাকাগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের এই লম্বা ছুটিতে পর্যটকেরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মাঠে রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি ও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তীব্র গরমের অস্বস্তি কাটিয়ে চট্টগ্রামের এই চেনা বিনোদনকেন্দ্রগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঈদের ছোঁয়ায়। উৎসবের এই রঙ আরও কয়েকদিন ঢাকাইয়া ও চাটগাঁইয়াদের মনে দোলা দিয়ে যাবে, এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।