জোয়ারের স্রােতে ভেঙে গেছে কুমুদিনী হাসপাতাল খেয়াঘাটের বাঁশের সাঁকো
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৩৫ গ্রামের মানুষের
ডেইলি সান রিপোর্ট, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতাল খেয়াঘাটে লৌহজং নদীর ওপর থাকা বাঁশের সাঁকো জোয়ারের পানির স্রােত আর কচুরিপানার চাপে ভেঙে গেছে। এতে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৩৫ গ্রামের মানুষের সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ঈদের আগে বাঁশের সাকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এজন্য প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে তাদের হাসপাতালসহ হাটবাজারে আসতে হচ্ছে। রবিবার (২৪ মে) সকাল থেকে এই ভোগান্তি চলছে। কয়েকদিন ধরেই লৌহজং নদীতে জোয়ারের কারণে পানি বাড়ছে।
উজান থেকে গত কয়েকদিন যাবত প্রচুর কচুরিপানা কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাটে বাঁশের সাকোতে আটকে থাকে। রবিবার জোয়ারের পানি বাড়ার ফলে কচুরিপানার চাপে ওই ঘাটে থাকা সাঁকোটি ভেসে যায়। এবারই প্রথম নয়, প্রতিবছর এই সময়ে সাঁকোটি ভেঙে যায়। এতে ভোগান্তির শিকার হয় নদীর দুই পারের মানুষ।
এর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সাঁকো দিয়ে পৌর এলাকার সাহাপাড়া, সরিষাদাইড়, আন্ধরা, পাহাড়পুড়, ঘোষপাড়া ছাড়াও মির্জাপুরের দক্ষিণাঞ্চলের ভাওড়া, বহুরিয়া, উয়ার্শী ইউনিয়নের অন্তত ৩৫ গ্রামের মানুষ নদী পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। কুমুদিনী হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং স্কুল ও কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই নদীর দক্ষিণ পারে বসবাস করেন। তারাও এই সাঁকো ব্যবহার করেন। এ ছাড়া সাঁকো দিয়ে অনেকে মোটরসাইকেলে ঢাকার ধামরাই, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন।
কিন্তু সাঁকোটি হঠাৎ ভেঙে যাওয়ায় তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পারাপারের জন্য কোনো নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়নি। ঈদে কর্মস্থল থেকে আসা মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ কুমুদিনী ঘাটে এসে পার হতে পারছেন না। ফলে তারা তিন কিলোমিটার এলাকা ঘুরে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাড়ি ফিরছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
এদিকে নদীর ওই ঘাট জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। গত দুই বছর যাবত তাও বন্ধ আছে বলে জানা গেছে। গত বছর মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এলাকাবাসীর দাবিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আরিফুল ইসলাম ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান পাহাড়পুর গ্রামের মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে খেয়া পারাপারের অনুমতি দেন। তিনি ভড়া মৌসুমে খেয়া নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করেন। শুস্ক মৌসুমে নদরি ওই এলাকায় পানি থাকায় তিনি বাঁশের সাকো তৈরি করে মানুষ পারাপার শুরু করেন।
অজ্ঞাত কারণে কুমুদিনী খেয়াঘাটে স্বাধীনতার ৫৪ বছরে সেতু নির্মাণ করা হয়নি। প্রতিবছর ওই স্থানে নদীর পানি বাড়লে সাঁকো ভেঙে দুই পারের মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আন্ধরা গ্রামের বাজলু মোল্লা বলেন, মির্জাপুরের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুঃখ কুমুদিনী খেয়াঘাট। এই দুঃখ দূর করতে কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘বাঁশের সাকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অতিরিক্ত ৮০ টাকা খরচ করে তিন কিলোমিটার ঘুরে সদরে চারবার যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
সরিষাদাইড় গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত মানববন্ধন, সমাবেশ ও উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও জেলা ও মন্ত্রণালয়ে এলাকাবাসী আবেদন করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেতুটি হচ্ছে না।’
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’