অফিস শেষ, ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ
সরকারি কর্মীদের অফিস শেষ, গার্মেন্টসের একাংশেও ছুটি শুরু; সড়কে উপচে পড়া ভিড়
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার তাড়ায় গাবতলী বাস টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
বিকেল গড়াতেই অফিসপাড়া ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ফাইলের স্তূপ রেখে, কম্পিউটারের পর্দা বন্ধ করে বেরিয়ে পড়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। কারও হাতে ছোট্ট ট্রলি ব্যাগ, কারও কাঁধে ভারী ব্যাকপ্যাক। গন্তব্য আলাদা— কেউ যাচ্ছেন রংপুর, কেউ বরিশাল, কেউ বা সুদূর কক্সবাজার। কিন্তু সবার চোখে একই আলো— বাড়ি ফেরার আনন্দ।
আজ রবিবার ছিল ঈদের আগের শেষ কার্যদিবস। দুপুর গড়াতেই অনেকে কাজ গুছিয়ে রওনা দিয়েছেন। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী— তিন টার্মিনালেই একই চিত্র। দীর্ঘ সারি, ঘাম, ধুলো আর অপেক্ষা। তবু কারও মুখে বিরক্তি নেই। কারণ এই অপেক্ষার শেষে আছে মায়ের হাতের রান্না, বাবার মুখের হাসি, ছোট ভাইবোনের দুষ্টুমি।
মতিঝিলের একটি সরকারি দপ্তরে কর্মরত রাশেদুল ইসলাম তিন বছর পর যাচ্ছেন গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। বললেন, ‘করোনার পর থেকে কোনো না কোনো কারণে ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়নি। এবার মা বলেছেন না গেলে আর কথা বলবেন না।’ হাসতে হাসতে কথাটা বললেন, কিন্তু চোখ একটু ভেজা।
গার্মেন্টসকর্মী সালমা বেগম আজ থেকেই ছুটি পেয়েছেন। সাভার থেকে বাসে চড়ে এসেছেন গাবতলী। যাবেন শরীয়তপুর। সঙ্গে ছোট মেয়ে। কোলের শিশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে কাঁধে হেলান দিয়ে। সালমা বললেন, ‘মাইয়াডার দাদিরে চিনে না ঠিকমতো। এইবার চিনব।’
কমলাপুর রেলস্টেশনেও একই ভিড়। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের জানালায় মুখ বাড়িয়ে আছেন যাত্রীরা। কেউ ফোনে কথা বলছেন— ‘হ্যাঁ আম্মা, উঠে পড়েছি, রাত নয়টার মধ্যে পৌঁছে যাব।’
ঢাকা প্রতি ঈদে এভাবেই একটু ফাঁকা হয়। রাস্তার যানজট কমে, পাড়ার চায়ের দোকান বন্ধ হয়, ফ্ল্যাটবাড়িতে তালা পড়ে। যে শহর সারা বছর ঘুমায় না, সে কয়েকদিনের জন্য একটু দম নেয়। আর যারা বছরভর এই শহরকে বাঁচিয়ে রাখেন— তারা ছুটে যান নিজেদের আসল ঠিকানায়।
ঈদ মানে শুধু নামাজ আর কোরবানি নয়। ঈদ মানে এই ফেরা। এই ট্রেনের হুইসেল, এই বাসের হর্ন, এই ভিড়ের মধ্যেও মুখে লেগে থাকা হাসি।