EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা
অ অ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুরোনো তালিকা ব্যবহার, মৃত ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেখানো এবং চালের স্লিপ বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও আটকে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) সকালে সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় প্রায় এক দশক আগের উপকারভোগীর তালিকা ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত মৃত ব্যক্তিদের নামেও চাল বরাদ্দ দেখিয়ে তা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে চালের শ্লিপ স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রেখে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন এবং পরে স্থানীয় কিছু লোকজনকে ডেকে এনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ওই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ঘিরে এক ধরনের ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভুল্লি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাদের দাবি, ১ শতাংশ বরাদ্দের অর্থে ১২টি টিউবওয়েল স্থাপনের একটি প্রকল্পে নতুন টিউবওয়েল স্থাপন না করে পুরোনো টিউবওয়েলের ছবি ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম চালিয়ে যাওয়া হলেও প্রশাসনের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোয়েব আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন