EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

গণমাধ্যম সংস্কারে কমিশন গঠনের দাবি সম্পাদকদের

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:২০ এএম

গণমাধ্যম সংস্কারে কমিশন গঠনের দাবি সম্পাদকদের

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও সংবাদপত্রের ওপর বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক বিধিনিষেধ দূর করতে দ্রুত গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।

রবিবার (১৭ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্পাদকরা বলেন, প্রচলিত অনেক গণমাধ্যম আইন সময়োপযোগী নয় এবং এগুলোর কিছু ধারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থি।

দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

সম্পাদক পরিষদের নেতারা জানান, পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ‘বি’ ফর্মে প্রকাশকদের যে অঙ্গীকারনামা দিতে হয়, সেখানে সরকারের স্বার্থের পরিপন্থি বা আপত্তিকর কোনো বিষয় প্রকাশ না করার শর্ত রয়েছে। সম্পাদকদের মতে, এ ধরনের ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক বিধান বহাল রয়েছে। তাই এসব ধারা বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানান তারা।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল–কে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারা বলেন, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী কাঠামো প্রয়োজন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাইয়ের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ জানায়, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৮২ জন সাংবাদিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে ৯৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়েও তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সম্পাদক পরিষদের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন নূরুল কবীর ও দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান চৌধুরী, এ এম এম বাহাউদ্দীন, মো. মোজাম্মেল হক ও রুশো মাহমুদসহ সম্পাদক পরিষদের নেতারা।

আরও পড়ুন