বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
মর্যাদাপূর্ণ ‘টাইম ১০০ ফিলানথ্রপি ২০২৬’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। এ স্বীকৃতির মাধ্যমে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তালিকাটিতে অন্তর্ভুক্ত হলেন।
বৈশ্বিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মার্কিন সাময়িকী টাইম তাকে এ সম্মাননা দিয়েছে।
প্রতি বছর টাইম সাময়িকী বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘টাইম ১০০ ফিলানথ্রপি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যারা সমাজ পরিবর্তন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
২০২৬ সালের তালিকায় বৈশ্বিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও কাঠামোগত পরিবর্তনে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আসিফ সালেহ ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।
স্থানীয় নেতৃত্বভিত্তিক উন্নয়ন মডেল এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় আরও ন্যায্য ও টেকসই পদ্ধতির পক্ষে কাজ করার জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়েছে। তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন রাজীব জে শাহ, ইদ্রিস এলবা, সাবরিনা ধৌরে এলবা ও ফুটবলার লিওনেল মেসির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিরা।
টাইম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বৈশ্বিক সহায়তা কমে যাওয়া ও উন্নয়ন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ব্র্যাকের বহুমুখী অর্থায়ন কৌশল ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীভিত্তিক কাজের ধারা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা। বাংলাদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংস্থাটি এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আসিফ সালেহ বলেন, এই অর্জন এশিয়া ও আফ্রিকার সেইসব মানুষের, যারা গত অর্ধশতাব্দী ধরে আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে এটি আমাদের কর্মীদেরও অর্জন, যারা প্রতিদিন কমিউনিটির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কোনো দান বা চ্যারিটি নয়। আমরা এমন একটি পদ্ধতিতে কাজ করি, যেখানে মানুষ শুধু সহায়তার গ্রহীতা নয়, বরং নিজেদের পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আসিফ সালেহ বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে দারিদ্র্য, সংঘাত ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নতুন করে লাখো মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই উন্নয়ন নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে।
টাইম সাময়িকী বলেছে, বৈদেশিক সহায়তায় কাটছাঁটের এই সময়ে ব্র্যাকের মডেল ভবিষ্যতের উন্নয়ন ভাবনায় নতুন দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ব্র্যাকের মিডিয়া রিলেশনস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের লিড গোলাম কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।