প্রযুক্তি, দেশপ্রেম ও নৈতিক নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১২:৩১ এএম
প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, দেশপ্রেম ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়েই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। বুধবার (১৩ মে) মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-তে অধ্যয়নরত সশস্ত্র বাহিনীর তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাখো মানুষের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষকে দিকনির্দেশনা ও সাহস জুগিয়েছিল।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব কেবল পেশাগত নয়, এটি একটি পবিত্র জাতীয় অঙ্গীকার। দেশপ্রেমকে প্রতিদিন শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র, বিশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, যুদ্ধ এখন আর শুধু ট্যাংক, কামান বা প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট, তথ্যযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তাই সামরিক নেতৃত্বকে প্রযুক্তি, তথ্য ও কৌশলগত যোগাযোগেও দক্ষ হতে হবে।
পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বিষয়। শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা সংস্কৃতির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
এমআইএসটির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং সশস্ত্র বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র। দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্বল্প ব্যয়ের ড্রোন, সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থা, নিরাপদ ট্যাকটিক্যাল কমিউনিকেশন ও তথ্য বিভ্রান্তি প্রতিরোধে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেট থাকা সত্ত্বেও দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন সম্ভব। সবকিছু বিদেশ থেকে ক্রয় করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। নিজস্ব সক্ষমতায় প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে।
তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা কেবল কমান্ডার নন, তিনি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রতীক। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ, নৈতিকভাবে দৃঢ় এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উগ্রবাদ, বিভাজনমূলক প্রচারণা, গুজব ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মের অপব্যাখ্যা জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা জ্ঞানের অংশ হলেও ইতিহাস বিকৃতি কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের ভিত্তি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। শৃঙ্খলাবদ্ধ চিন্তা, জ্ঞান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান-সহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।