EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষবিদায় একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর

তার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের মানুষজন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষবিদায় একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চলে গেলেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২)। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের মানুষজন।

বুধবার (১৩ মে) সকালে নিজ গ্রাম বলিদ্বারায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সী টেপরী রাণীকে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণ রক্ষার আশায় তার অসহায় বাবা পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে তুলে দিতে বাধ্য হন। সেই যাত্রায় বাবা-মেয়ের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, ছিল শুধু নীরব কান্না আর আতঙ্কের ভার। এরপর টানা সাত মাস পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী রাণী। কিন্তু স্বাধীন দেশেও সমাজ তাকে আপন করে নেয়নি। সন্তান নষ্ট করার জন্য চারদিক থেকে চাপ আসলে তার বাবা দৃঢ়ভাবে মেয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হতো। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক।

দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেপরী রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবন দেশের স্বাধীনতার জন্য নারীদের আত্মত্যাগের গভীরতা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, আমাকে নিয়ে মাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু দেশের জন্য মায়ের যে ত্যাগ, সেটা কখনও ভোলার নয়। ২০১৭ সালে মা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসে।

এবিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। দেশের জন্য তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আরও পড়ুন