দক্ষিণ এশিয়ায় তামাক ব্যবহারে শীর্ষে বাংলাদেশ
তরুণদের তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির দাবি তরুণ চিকিৎসকদের।
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন তরুণ চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, বাজারে সস্তা সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে তামাকাসক্তি। এ পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজকে রক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্য ও কর বৃদ্ধি জরুরি।
রবিবার (১০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তরুণদের তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির দাবি’ শীর্ষক মানববন্ধনে এসব দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী দেশের প্রায় ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ মানুষ তরুণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অথচ গ্যাটস ২০১৭ জরিপ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই তামাক ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ, যা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
তারা জানান, তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বক্তারা আরও বলেন, বাজারে নিম্নমূল্যের সিগারেট সহজে পাওয়া যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করলে ধূমপান কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
মানববন্ধনে উপস্থাপিত প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি উচ্চ স্তরের সিগারেটের মূল্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সব স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানান বক্তারা।
প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. রামিসা ফারিহা বলেন, দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। মূল্য বৃদ্ধি পেলে তরুণদের মধ্যে ধূমপান শুরু করার প্রবণতা কমে আসবে।
সন্ধানী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. মুকাররাবিন হক নিবিড় বলেন, টোব্যাকো এটলাস ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধূমপানের হার ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা উদ্বেগজনক। শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তাওহিদুল ইসলাম, ডা. মেহনাজ তামান্না, ডা. শরীফ, ডা. শামীম, ডা. প্রভাত, ডা. সাফিন, ডা. জুহা, ডা. মুন্নাসহ অন্যরা। মানববন্ধনে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের তরুণ চিকিৎসকরা অংশ নেন।