বন্যার আগেই সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে ডব্লিউএফপি, আগাম পদক্ষেপে প্রাণহানি কমানোর উদ্যোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
আসন্ন বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চল—সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।
ডব্লিউএফপির ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন (এএ)’ কর্মসূচির আওতায় নির্ভরযোগ্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে আগাম সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে সরাসরি ৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রথম দফায় এই অর্থ বিতরণ করা হয়, যখন পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার চূড়ান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
এই নগদ সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো আগেভাগেই খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, ঘরবাড়ি সুরক্ষা এবং জীবিকা রক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে। বন্যার পানি ওঠার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে, যা দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তার তুলনায় বেশি কার্যকর।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার নগদ সহায়তা ও আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছে। ডব্লিউএফপির ট্রাস্ট ফান্ড এবং ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সহায়তা বিভাগ (ইকো)-এর অর্থায়নে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত আরও ৪ হাজার ৪০০ পরিবারকে অতিরিক্ত নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা জরুরি চাহিদা মেটাতে পারে। এতে সরকারের সঙ্গে ডব্লিউএফপির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটেছে, যা জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর করে তুলছে।
ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ক্রমেই ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে আগাম পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশনের মাধ্যমে পরিবারগুলো আগেভাগেই খাদ্য সুরক্ষা, সম্পদ রক্ষা কিংবা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি নিতে পারে।
বিশ্ব ঝুঁকি সূচক ২০২৪ অনুযায়ী, দুর্যোগ ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ডব্লিউএফপি এ ধরনের আগাম পদক্ষেপভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা)সহ বিভিন্ন অংশীদার সহায়তা প্রদান করছে।
ডব্লিউএফপি ও তার অংশীদারদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম পদক্ষেপে বিনিয়োগ করা প্রতি ১ ডলারে সর্বোচ্চ ৭ ডলার পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব, যা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।