১০০ জন হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিল ডিএসসিসি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডিএসসিসি নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ এর আওতায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় আমরা রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা চালু করেছি। এর মাধ্যমে একদিকে নগরীতে শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে প্রান্তিক হকারদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হকার, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও সাধারণ মানুষ সবাই মিলে সহযোগিতা করলে এই ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।’
ডিএসসিসি প্রশাসক হকারদের নির্ধারিত স্থান ও সময় মেনে ব্যবসা পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিয়মনীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আজ ১০০ জন হকারকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল নিবন্ধিত হকারকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা যাচাই করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, ফুটপাথে পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত স্থান ও সময় অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হকারদের বসার ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্যে গুলিস্তান, মতিঝিল, রাজউক ভবন সংলগ্ন এলাকা, বাইতুল মোকাররম পূর্বগেট, নিউ মার্কেট, শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকা এবং আশপাশের নির্ধারিত স্থানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু এলাকায় দিনভিত্তিক এবং কিছু এলাকায় সন্ধ্যাকালীন বাজার পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, স্কুল, খেলার মাঠ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না এবং কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ থাকবে। নীতিমালা লঙ্ঘন করলে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি চালাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব পরিমল সরকার এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। বক্তারা এই উদ্যোগকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।