EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কসবায় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব: ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

‘আখাউড়া স্থলবন্দর কেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক করিডোর; কসবা ইপিজেড হতে পারে পূর্বাঞ্চলের ‘ইকোনমিক পাওয়ার হাউস’।’

ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

কসবায় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব: ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ‘তিন লাখ পীর’ এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কসবা-আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪) নির্বাচনি এলাকার বিএনপি মনোনীত (২০২৬) এমপি প্রার্থী এবং ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া সম্প্রতি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছে এই প্রস্তাব পেশ করেন।

এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো, জেলায় অন্তত ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে বেপজা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

প্রস্তাবিত এই ইপিজেডের অবস্থানটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই এলাকাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের পথ। এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নৈকট্য কসবাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য আদর্শ স্থানে পরিণত করেছে।

৩৫-৪০ লাখ জনসংখ্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক রয়েছেন। কসবা ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ২.৫ থেকে ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া পরিবহন, আবাসন ও সাপ্লাই চেইনসহ আনুষঙ্গিক সেবা খাতে আরও সমপরিমাণ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে সব মিলিয়ে ৫ লক্ষাধিক মানুষের জীবনমান বদলে যাবে।

ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

কসবা ইপিজেডে প্রধানত চারটি শিল্প খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি প্রধান রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত হবে। মোবাইল, এলইডি পণ্য ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার উৎপাদিত ধান, মাছ ও সবজি প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে। সীমান্ত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে কোল্ড স্টোরেজ ও ট্রান্সশিপমেন্ট হাব গড়ে উঠবে।

চীনের শেনজেন ইকোনমিক জোন কিংবা ভিয়েতনামের হো চি মিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরের আদলে কসবাকে একটি ‘ইস্টার্ন ইকোনমিক পাওয়ার হাউস’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি কেবল শিল্পাঞ্চল নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্পটি সফল করতে ১০০০-১৫০০ একর জমি বরাদ্দ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার, দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং কর্মীদের জন্য স্মার্ট টাউনশিপ (আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা) নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর-ছাড় ও বিশেষ বন্ড সুবিধার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় প্রস্তাবিত ইপিজেড কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়; এটি হবে পূর্ব বাংলার একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যেখানে শিল্প, কৃষি, ব্যাবসা, লজিস্টিকস ও সীমান্ত বানিজ্য একই গতিতে সমন্বিত হবে।

আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সমগ্র পূর্বাঞ্চল নতুন শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন