EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ: শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ: শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি
অ অ

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীতে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান তামাকজাত পণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট) নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, নতুন আইনে এই পণ্যগুলোকে সংজ্ঞার বাইরে রাখায় এবং নিষিদ্ধের বিধান বিলুপ্ত করায় শিশুদের জন্য এটি ‘প্রাণঘাতী হুমকি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বিটিসিএ, বিএনটিটিপি, পিএইচএল, তাবিনাজ ও সিএসডি যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হওয়া ইতিবাচক হলেও ধারা ২(গ) থেকে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে এখন এই নেশাদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কার্যত কোনো আইন রইল না। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুসরণ করেনি। আইনি বাধা না থাকায় বিক্রেতারা এখন যেকোনো বয়সের শিশুর কাছে এসব পণ্য বিক্রি করতে পারবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ নিকোটিন আসক্তির দিকে ঠেলে দেবে।

সিএসডির আহ্বায়ক একেএম মাকসুদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ফারহানা জামান লিজা। এতে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল মাসুদ, মো. বজলুর রহমান, শিশু বিশেষজ্ঞ শাহ ইসরাত আজমেরী, শাগুফতা সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সামিউল হাসান সজীব।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল টোব্যাকো এপিডেমিক-২০২১’ রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) মোটেও নিরাপদ নয়। ক্ষতিকর বিবেচনায় ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এই মরণঘাতী পণ্যকে বাজার সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষণা সেল 'টিসিআরসি'-এর এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, তরুণদের আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানিগুলো বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ই-সিগারেটের দোকান গড়ে তুলছে। গত এক বছর নিষিদ্ধ থাকায় এই প্রবণতা কমলেও আইনি শিথিলতার সুযোগে তারা আবারও অবৈধ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণদের নেশায় প্রলুব্ধ করছে।

তিন দফা দাবি

ভুল সংশোধনের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:

১. ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে দ্রুত পৃথক আইন প্রণয়ন করা।

২. আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তামাক কোম্পানির অনুমোদনের বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা।

৩. ই-সিগারেট আমদানি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।

বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ই-সিগারেটের মতো নতুন ধরনের নেশাজাতীয় পণ্যের আইনি বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন