বিপিএসসির এক বছরের সংস্কার প্রতিবেদন প্রকাশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
কামরুল ইসলাম রতন
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক কাঠামো জোরদারের লক্ষ্যে এক বছরের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ফ্রম গ্রিডলক টু গভর্ন্যান্স রিনিউয়াল: ওয়ান ইয়ার অব ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনটি অক্টোবর ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের সংস্কার কার্যক্রমের একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ রয়েছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানে বিপিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় কমিশন দীর্ঘসূত্রতা, একাধিক বিসিএস পরীক্ষার জট, ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। এসব সমস্যা মোকাবিলায় গত এক বছরে একটি সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সংস্কারের অংশ হিসেবে “One BCS, One Year” কার্যপদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বছর থেকে কমে তিন মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ফল প্রকাশের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্ন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গুণগত মান বৃদ্ধি, গোপনীয়তা নিশ্চিতকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং দক্ষতাভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষা চালুর মাধ্যমে প্রার্থীদের আরও কাঠামোবদ্ধভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন আবেদন, স্বয়ংক্রিয় ফল প্রক্রিয়াকরণ এবং ইউনিক ক্যান্ডিডেট আইডি চালুর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ কেবল একটি নীতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সেবার ভিত্তি। তিনি জানান, ন্যায় ও সততার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রশাসনই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারি বলেন, সরকারি চাকরিতে সুপারিশভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ আর রাখা হবে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান তরুণদের ‘বিসিএস নির্ভরতা’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় এক পরীক্ষার পেছনে ব্যয় না করে বিকল্প পেশার দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় সরকার, একাডেমিয়া ও উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় নিয়োগ ব্যবস্থার ধারাবাহিক সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সিভিল সার্ভিস গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাস কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে এ সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করছে। বিপিএসসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।