EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

হাসপাতালে চাঁদাবাজি, সাবেক যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭

সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ এএম

হাসপাতালে চাঁদাবাজি, সাবেক যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদার দাবিতে স্টাফদের হুমকি দেন সাবেক যুবদল নেতা মঈনসহ অন্যরা। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

অ অ

রাজধানীর শ্যামলীতে খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় প্রধান আসামি যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। কিন্তু তাদের নাম-পরিচয়ন জানায়নি র‌্যাব।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। 

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

এর আগে এই ঘটনায় জড়িত আরও চার সহযোগী—ফালান মিয়া, রুবেল, সুমন ও লিটন মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত ১১ এপ্রিল হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এক নম্বর আসামি করেন শেরেবাংলা নগর থানায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়।

আমার স্ত্রী আসামিদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঊচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি। পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে।

একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন— ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব’ মর্মে হুমকি সূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।

এমনকি তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন