EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আপসের শর্তে দুই আসামির জামিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ এএম

৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আপসের শর্তে দুই আসামির জামিন
অ অ

ঢাকার একটি আদালত এক নারী উদ্যোক্তার প্রায় ৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের মামলায় দুই আসামিকে জামিন দিয়েছেন। জামিন পাওয়া দুই আসামি হলেন মো. মেসবাহউদ্দীন ও মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী রাজু এইচ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তারা বাদীর সঙ্গে চেক ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে আপস করার অঙ্গীকার করে লিখিত আবেদন দেন। এরপর আদালত আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত আপসের শর্তে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাধারণত আংশিক অর্থ পরিশোধ ছাড়া জামিন দেওয়া হয় না। শুধু আপসের আশ্বাসের ভিত্তিতে জামিন দেওয়ায় বাদী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তুষার কান্তি দাস সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আপসের শর্তে দুই আসামির জামিন দিয়েছেন। মামলার এক নম্বর আসামি রাজিয়া রহমান ওরফে বৃষ্টি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় আদালতে হাজির হননি। তিনি দেশে ফিরলে বাদীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

গত ২৮ জানুয়ারি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীমা এ খান ওরফে শামীমা আতিকুল্লাহ খান বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— মনোয়ারা বেগম ওরফে মনোয়ারা রিয়াজ ও রাজিয়া রহমান ওরফে বৃষ্টি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজিয়া রহমান বাদীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর মেয়ে হওয়ায় তাকে ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সদস্যের মতো দেখতেন শামীমা। বিভিন্ন সময় তাকে আর্থিক সহায়তাও করেন। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তাকে প্রতিষ্ঠানের চিফ বিজনেস অফিসার পদে নিয়োগ দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক দায়িত্ব অর্পণ করেন।

বাদীর স্বামী আতিকুল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসার কিছু ব্যাংক ঋণ জটিল হয়ে পড়লে রাজিয়া নিজেকে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার পরামর্শে বনানীর পূবালী ব্যাংক শাখায় একটি নতুন হিসাব খোলা হয় এবং রাজিয়াকে ওই হিসাবের নমিনি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমি বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা ৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে রাজিয়া ও তার সহযোগীদের হাতে তুলে দেন বাদী। এ সময় ৫৪টি স্বাক্ষর করা চেকও তাদের দেন, যেখানে টাকার অঙ্ক উল্লেখ ছিল না।

পরবর্তীতে ওই চেকগুলোতে টাকার অঙ্ক ও তারিখ বসিয়ে ব্যাংক থেকে পুরো অর্থ তুলে নিয়ে তা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাদী জানতে পারেন, ঋণ সমন্বয়ের জন্য কোনো অর্থ জমা দেওয়া হয়নি। বরং ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক তার প্রতিষ্ঠান ও তার বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে একাধিক মামলা করেছে। পরে ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত সংগ্রহ করে তিনি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন।

আরও পড়ুন