EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: তদন্তে তিন বিভাগের চরম অবহেলার প্রমাণ

ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: তদন্তে তিন বিভাগের চরম অবহেলার প্রমাণ
অ অ

বগুড়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আন্তনগর “নীলসাগর এক্সপ্রেস”টি সান্তাহার জংশন সংলগ্ন বাগবাড়ি ছাতিয়ানগ্রাম এলাকায় লাইনচ্যুতির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ের পৃথক তিনটি বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে চরম অবহেলাসহ বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে গঠিত পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ডোইলি সানকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহম্মেদ। 

প্রতিবেদনে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ, লোকোমাস্টার ও স্টেশন মাস্টারের গাফিলতির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি জানান, দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনার প্রধান ও মূল কারণ ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিষ্ঠিত বিধিমালার (এস্টাবলিশড রুল) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রেললাইনে কাজ চলাকালীন স্টেশন মাস্টারের পক্ষ থেকে চালককে প্রয়োজনীয় ‘অর্ডার ওপিটি’ (ওপিটি) ফর্ম বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। 

নিয়ম অনুযায়ী, এই ফর্ম ইস্যু করা হলে চালক আগে থেকেই কাজের বিষয়ে অবগত থাকতেন এবং ট্রেনের গতি ১০ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেন। এছাড়া প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে লাইনে কাজ করার সময় বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বে লাল পতাকা (ফ্ল্যাগ) প্রদর্শন করা হয়নি। 

এছাড়া ট্রেনের লোকোমাস্টারের বিরুদ্ধে অসতর্কতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সামনে রেলকর্মীরা কাজ করলেও এবং পর্যাপ্ত দূরত্বে পতাকা না থাকলেও চালক দূর থেকে বিষয়টি খেয়াল করে সতর্ক হতে পারতেন। 

জিএম ফরিদ আহম্মেদ জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে ৩ পর্যায়ের অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল বিধি (রেলকোড) অনুযায়ী, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এখন শুধু দায়িত্বে অবহেলা করা কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষা। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আগমুহূর্তে (১৮ মার্চ) বেলা সোয়া ২টার দিকে জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার “নীলসাগর এক্সপ্রেস”টি সান্তাহার জংশন সংলগ্ন বাগবাড়ি ছাতিযানগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ এতে প্রায় ৭০ জন যাত্রী হতাহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী নওগাঁ সরকারি হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে রাজশাহী, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, চিলাহাটি, সৈয়দপুরের দিকে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তরাঞ্চলগামী প্রায় সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ৬টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং ৭টি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

ঘটনার পর পরই দ্রুততার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনযাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাসহ তাদের যথাযথ গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দেন। 

পরে এ ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট সর্বমোট ৮ সদস্যের পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একটি ছিল বিভাগীয় পর্যায়ে অন্যটি। যার একটির প্রধান ছিলেন রেলওয়ের প্রধান পরিবহন কমকর্তা এবং অন্যটিতে প্রধান ছিলেন বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পাকশী) তাদের দেওয়া পৃথক দুইটি তদন্ত প্রতিবেদন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন