EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

হঠাৎ আঘাত হানা শিলাবৃষ্টি ও দমকা ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক এলাকা। প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত তাণ্ডবে কৃষি, বসতভিটা ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা, যাদের একমাত্র অবলম্বন ছিল মৌসুমি ফসল।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে সদর উপজেলা ছাড়াও হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী, রাণীসংকৈলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে শুরু হয় দমকা হাওয়া। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় ভয়াবহ ঝড়ে, সঙ্গে শুরু হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ।

শিলার আঘাতে মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায় আম ও লিচুর মুকুল। পাশাপাশি গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির গম, ১ হাজার ৭১৭ হেক্টর ভুট্টা, ২৫৭ হেক্টর আলু, ৩ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ এবং ৬৬ হেক্টর পেঁয়াজ বীজের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক এই হিসাব আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার কৃষক পরিতোষ বলেন, তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার অর্ধেকই ঋণ নেওয়া। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণ শোধ তো দূরের কথা, নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।

তিনি জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ইতোমধ্যেই খাদ্য সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা বিতরণ শুরু করা হবে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন