জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হতে পারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ, ঈদে বাড়তে পারে ভোগান্তি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলে চলমান কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে একসময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হলেও সম্প্রতি কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে এখনও আশুগঞ্জ ও সরাইল গোলচত্বরে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিংকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, সরাইল বিশ্বরোড থেকে কুট্টাপাড়া মোড় পর্যন্ত ইতোমধ্যেই যানজট হচ্ছে। ঈদের আগে জরুরি মেরামত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদের দাবি জানান তারা।
ফোরলেন প্রকল্পের এক কর্মকর্তা সভায় জানান, প্রতিদিন নিয়মিত কাজের জন্য ১২ থেকে ১৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এছাড়া বিটুমিনাস প্ল্যান্ট চালাতে আরও ১২ থেকে ১৩ হাজার লিটার জ্বালানি দরকার হয়। ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে নির্ধারিত কাজ সময়মতো শেষ করা কঠিন হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ৭ কিলোমিটার চারলেনের কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বরোড থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারের মধ্যে অধিকাংশ স্থানে দুই লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে ঢাকামুখী একটি লেন অস্থায়ীভাবে প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি কিছু অংশে রিজিড পেভমেন্টের কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সরাইল অংশেও বিকল্প লেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ বাকি রয়েছে। শহরের বিরাশার, পৈরতলা, সুলতানপুর, ধরখার ও তন্তর এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, যার মধ্যে এক কিলোমিটার কাজ ঈদের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় ঋণ সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৫ হাজার ১৩৪ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। তবে মাঝপথে নকশা পরিবর্তন, অর্থ বরাদ্দ জটিলতা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে প্রকল্পটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারলে ঈদযাত্রায় স্বস্তি মিলবে, অন্যথায় আবারও দীর্ঘ যানজট ও দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে যাত্রীদের।