জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণতের দাবি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আরও শক্তিশালী করে আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (১৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশের খ্যাতনামা ১৪ জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ তামাক। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত রোগে ভোগেন। টোব্যাকো এটলাস-এর তথ্য অনুসারে, তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৪ লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের কারণে দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৬১ হাজার শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এসব ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। এ জন্য একটি শক্তিশালী আইন প্রয়োজন। সম্প্রতি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের মানুষ নতুন আশা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার সরকারি উদ্যোগ ব্যাহত করতে তামাক কোম্পানিগুলো বরাবরের মতো বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দাবি করছে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী হলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাবে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো—২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন এবং ২০১৩ সালে সংশোধনের মাধ্যমে আইনটি শক্তিশালী করার পরও দেশে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে গত ২০ বছরে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় রাজস্ব আয় কখনোই মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্যের চেয়ে বড় হতে পারে না।
তারা অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানিগুলো লাভের জন্য বিভিন্ন কৌশলে তরুণদের তামাকের দিকে আকৃষ্ট করছে। শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ধূমপানের স্থান তৈরি করা, বিক্রয়স্থলে আগ্রাসী বিজ্ঞাপন দেওয়া, খুচরা শলাকা বিক্রি অব্যাহত রাখা এবং ভেপিং ও ই-সিগারেট জনপ্রিয় করতে গোপনে মেলার আয়োজন করা—এসব কার্যক্রম তরুণ প্রজন্মকে তামাকাসক্ত করার প্রচেষ্টা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংশোধিত আইনে সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির জন্য আলাদা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার বিধান যুক্ত করা হলে আইনটি আরও কার্যকর হবে।
এ পরিস্থিতিতে তামাক কোম্পানির ভ্রান্ত প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আরও শক্তিশালী করে দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীপক কুমার মিত্র, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. নওজিয়া ইয়াসমীন, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, ডা. খালেদা ইসলাম, অধ্যাপক ডা. এম. এইচ. ফারুকী, পলাশ চন্দ্র বনিক, ডা. লেলিন চৌধুরী, ড. আবু জামিল ফয়সাল, জুনায়েদ আল আযদী এবং ডা. দীপা বড়ুয়া।