সুনামগঞ্জের বারেকটিলায় প্রকাশ্যে গাছ কাটার অভিযোগ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ডেইলি সান রিপোর্ট , সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বারেকটিলায় প্রকাশ্যে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় গাছ কাটার পাশাপাশি রাতের আঁধারেও বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে, ফলে পর্যটনকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে গাছশূন্য হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে তাহেরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারেকটিলায় ৩-৪টি গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন টিলায় বসবাসকারী সচেতন ব্যক্তিরা।
গাছ কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি উপজেলা জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ হিসেবে পরিচিত বারেকটিলা একসময় গাছপালা, পাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছিল। কিন্তু গত এক যুগে বিভিন্ন কারণে এই বনভূমি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দিনের বেলায়ও কিছু লোক কুড়াল দিয়ে গাছ কেটে ঠেলাগাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা দেখলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করছেন না।
উল্লেখ্য, ভারতের মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা প্রায় ৩৬৫ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বারেকটিলা ধলাইরগাঁও বিট অফিসের আওতাভুক্ত। এখানে আদিবাসী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসতি রয়েছে এবং নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য এলাকাটি পরিচিত। পর্যটন সম্ভাবনাময় এই স্থানটি অনেকের কাছে বাংলাদেশের ‘আইফেল টাওয়ার’ নামেও পরিচিত।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বারেকটিলার প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য দ্রুত ধ্বংসের মুখে পড়ছে। ফলে আগের মতো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনও কমে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, টিলার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেখানে নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।