EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মানবিকতার আড়ালে প্রতারণা: ভিক্ষুকের বিকাশে জমা হতো ভুক্তভোগীর টাকা

ডেইলি সান রিপোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

মানবিকতার আড়ালে প্রতারণা: ভিক্ষুকের বিকাশে জমা হতো ভুক্তভোগীর টাকা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মানবিকতা, সহানুভূতি আর সরকারি ভাতার প্রলোভনের আড়ালে চলছিল ভয়ংকর এক প্রতারণা। ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের নামে নিবন্ধিত বিকাশ, নগদ ও রকেট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল লাখ লাখ টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির জালে ধরা পড়ল সেই প্রতারক চক্রের মূল হোতা—স্বামী ও স্ত্রী।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিআইডি-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণায় জড়িত মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫) ও তার স্বামী মো. মোবারক হোসেন (৫৫)-কে গ্রেপ্তার করে।

যেভাবে সাজানো হতো প্রতারণার ফাঁদ

তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোনো ভিক্ষুক বাড়িতে এলে তাকে সরকারি রেশন, ভাতা ও নানা সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। বিনিময়ে ভিক্ষুকদের নিজের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট প্রতারকদের কাছে জমা রাখতে বাধ্য করা হতো।

এরপর শুরু হতো প্রতারণার আসল নাটক। সেই সিম ব্যবহার করে ফোন দেওয়া হতো সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের কাছে। ফোনের অপর প্রান্তে শোনা যেত আতঙ্কে ভরা কণ্ঠ—‘আপনার মা, মেয়ে কিংবা স্ত্রী মারাত্মক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি। অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনই টাকা না পাঠালে প্রাণহানি হতে পারে।’

পুরুষ কণ্ঠে কথা বলতেন মোবারক হোসেন, আর নারী কণ্ঠে অভিনয় করতেন তার স্ত্রী সুলতানা খাতুন। ভয় ও আবেগে যাচাই না করেই অনেকেই টাকা পাঠিয়ে দিতেন—আর সেই টাকা জমা পড়ত ভিক্ষুকদের নামে খোলা এমএফএস অ্যাকাউন্টে। অর্থ পাওয়ার পরপরই ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল নষ্ট করে দিত তারা।

অভিযোগ থেকে গ্রেপ্তার

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এক ভুক্তভোগীর সুইডেনপ্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে তার মাকে ফোন করে প্রতারক চক্র। চিকিৎসার খরচের কথা বলে একটি রকেট অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে আদায় করা হয় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা। পরে প্রতারণা বুঝতে পেরে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলায় রূপ নেয়।

প্রযুক্তির সহায়তায় ধরা

এলআইসি ও সিআইডির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্ত করা হয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই চালানো হয় অভিযান। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণালব্ধ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও ৪টি সিম কার্ড।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দম্পতি একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিট কর্তৃক চলমান এবং প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন