ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে ৫ বারের এমপিসহ ১৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
প্রচলিত বিধান অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যও রয়েছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না। এ নিয়মে জেলার বেশির ভাগ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামানত হারিয়েছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম।
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের একাংশ) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান, জাতীয় পার্টির নুরুন নাহার বেগম, এবি পার্টির নাহিদ রানা, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল ইসলাম এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাহাবউদ্দিন আহমেদ।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল) আসনে দশজন প্রার্থীর মধ্যে আটজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচবারের সাবেক সাংসদ ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। অন্যরা হলেন গণঅধিকার পরিষদের মামুনুর রশিদ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আল আমিন, সুপ্রিম পার্টির আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাত সমির, বাংলাদেশ মাইনোরিটি পার্টির কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি জানান, জেলায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা ছাড়া অন্যদের জামানত ফেরতযোগ্য হয়নি।
নির্বাচনের এ ফলাফল বড় রাজনৈতিক দলের বাইরে ছোট ও নতুন দলগুলোর সীমিত ভোটভিত্তির বিষয়টি তুলে ধরেছে। একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যের জামানত হারানো স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।