EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

৫৯ আসনে ভোট ৭০ শতাংশেরও বেশি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

৫৯ আসনে ভোট ৭০ শতাংশেরও বেশি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম। ১৮ বছর আগের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ওই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ছিল মোট ভোটারের ৮৭.১৭ শতাংশ। ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কারণে ভুয়া ভোটার না থাকায় ওই বছর ভোট প্রদানের হার বাড়ে বলে তখন নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছিল। এর পরের নির্বাচনগুলো ছিল দলীয় সরকারের অধীনে চরমভাবে বিতর্কিত।

নির্ভুল ভোটার তালিকা থাকার পরও ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৪১.৮ শতাংশ। তবে ১৮ বছর পর এবার নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকার পরও প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। রক্তপাতহীন এই নির্বাচন সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘যেকোনো মানদণ্ডে এটি দেশের ইতিহাসে ভালো ভোট।’

৫৯ আসনে ভোট ৭০ শতাংশেরও বেশিনির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার নির্বাচনের ফলাফল জানাতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের সংসদীয় ফল প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তবে ওই আসনগুলোতে গণভোটের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ২৯৯টি আসনে গণভোটের ফল প্রকাশ করা যাচ্ছে। এ কারণেই ২৯৭টি আসনের সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ হলেও গণভোটে তা ৬০.২৬ শতাংশ হয়েছে।

ইসি সচিব জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তনের পক্ষে জনগণ স্পষ্ট মত দিয়েছে।

দলভিত্তিক প্রাপ্ত আসনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুটি আসন স্থগিত বাদে ২০৯টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি, খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রর্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেছেন। তবে জোট হিসেবে বিএনপি জোট মোট ২১৩টি ( দুটি স্থগিতসহ) আসন পেয়েছে।

উল্লেখ্য, এবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪১টি দল কোনো আসনেই জিততে পারেনি।

ইসি সচিব গতকাল আরো বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের হার্ডকপি না পাওয়া পর্যন্ত এর গেজেট প্রকাশ করা হবে না। বার্তাশিটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা শেষে একসঙ্গে ডিজিটাল আদেশে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তড়িঘড়ি করে কিছু বলা আমাদের দায়িত্বশীলতার মধ্যে পড়ে না। চূড়ান্ত শিট হাতে পেলেই গেজেট জারি হবে। এক ঘণ্টায় এলে এক ঘণ্টায়, দুই ঘণ্টায় এলে দুই ঘণ্টায়।’

তিনি জানান, দুই আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) বিষয়ে কোনো ‘চিঠি’ নয়, বরং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন ফল প্রকাশ না করলেও জানা যায়, ওই দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এবং তারা আশা করছেন আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে আসবে।

এদিকে এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।

এর মধ্যে সাত কোটি ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৩৮২ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ দুই হাজার ২৮৫টি। বৈধ ভোট ছয় কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৬টি। এ হিসাবে প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ।

কোন নির্বাচনে কত ভোট: নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ছিল ৫৫.৬২ শতাংশ। এরপর ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০.৯৪ শতাংশ, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬০.৩১ শতাংশ, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৫৪.৯৩ শতাংশ, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৫৫.৪৫ শতাংশ, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ২৬.৭৪ শতাংশ, একই বছর ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৭৫.৬০ শতাংশ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৭৫.৫৯ শতাংশ, ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ৮৭.১৭ শতাংশ, ২০১৪ সালের ‘বিনা ভোট’ দশম সংসদের ১৪৭টি আসনের নির্বাচনে ৪০.০৪ শতাংশ, ২০১৮ সালে রাতের ভোট নামে পরিচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮০.২০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের একতরফা ‘আমি-ডামি’ নামে পরিচিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪১.৮ শতাংশ ভোটার ভোট দেন। ৫৯ আসনে ভোট ৭০ শতাংশেরও বেশি


এবার ৭০ শতাংশের বেশি ভোট ৫৯ আসনে : সবচেয়ে বেশি ৮২.৫৮ ভোট পড়েছে পাবনা-২ আসনে। আর সবচেয়ে কম ৩৭.৪২ ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে। ৭০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে পঞ্চগড়-১ ও ২; ঠাকুরগাঁও-১, ২ ও ৩; দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; নীলফামারী-২ ও ৩; লালমনিরহাট-১; জয়পুরহাট-১ ও ২; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ও ২; নওগাঁ-১, ২, ৩ ও ৪; রাজশাহী-১, ৩, ৪ ও ৬; নাটের-১, ২, ৩ ও ৪; পাবনা-২, ৩ ও ৪; মেহেরপুর-১; কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪; চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২; ঝিনাহদহ-১, ২, ৩ ও ৪; যশোর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; বাগেরহাট-২ ও ৩; খুলনা-৫ এবং সাতক্ষীরা-১, ২ ও ৩ আসনে ৭০ থেকে ৮২.৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে।

অন্যদিকে ৪০ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে।

গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে ৪৪.৫৪% ভোটার ভোট দিয়েছেন : এবার নজিরবিহীনভাবে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই তিন আসনে গড়ে ৪৪.৫৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ৪৯.৭ শতাংশ, গোপালগঞ্জ-২ আসনে ৩৯.৭৮ শতাংশ এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ৪৪.১৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।

গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট।

ঢাকার ২০ আসনের চিত্র: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনে বিএনপি ও সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ঢাকা-২০ আসনে সবচেয়ে বেশি ৬৩.৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬০.৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকা-২ আসনে। আর সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীর ঢাকা-১২ আসনে সর্বনিম্ন ৩৭.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। ঢাকা থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে ঢাকা-২ আসনের আমানউল্লাহ আমান এবং ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস এর আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন। কিন্তু অন্য ১৮ জন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। [সূত্র: কালের কণ্ঠ]

আরও পড়ুন